Home / ভিডিও / লোকবেতারের প্রতি ঘন্টার সংবাদ (29-05-2021) # সংবাদ পাঠক : মনির হোসেন কামাল

লোকবেতারের প্রতি ঘন্টার সংবাদ (29-05-2021) # সংবাদ পাঠক : মনির হোসেন কামাল

আসসালামু আলাইকুম।

আজ ২৯ মে, ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ # ১৫ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৬ শাওয়াল, ১৪৪২ হিজরী, রবিবার।

সংবাদ পাঠ করছি মনির হোসেন কামাল।

প্রথমেই শুনবেন, সংবাদ শিরোনাম :
আজ ও আগামীকাল বরগুনা জেলখানা গণহত্যা দিবস। করোনায় সারাবিশে^ মৃত্যুর সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৩৫ লাখ ৩৯ হাজার। বাংলাদেশে মারা গেছেন আরও ৩৮ জন। বরগুনায় এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ৩২ জন। মাইকিংয়ের রেকর্ড করা হয় লোকবেতারে।

শুনলেন সংবাদ শিরোনাম। এবার বিস্তারিত :
আজ ও আগামীকাল বরগুনা জেলখানা গণহত্যা দিবস। একাত্তরে এ দুটি দিনে বরগুনা জেলখানায় আটককৃত নিরীহ বাঙ্গালীদের গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। পাক হানাদার বাহিনীর রোষানলের শিকার হয়ে অনেক বাঙ্গালী মুসলমান সেদিন কবরের সাড়ে তিন হাত জায়গা পায়নি, হিন্দুরা পায়নি আগুনের ছোঁয়া। তাদেরকে দেয়া হয়েছে একই গর্তে মাটি চাপা। বরগুনা শহরের পৌর এলাকার শহীদ স্মৃতি সড়ক দিয়ে দক্ষিণ দিকে হেটে গেলে চোখে পড়বে লাল রং করা পাচিল ঘেরা জেলখানা। জেলখানার দক্ষিণ পাশে শহীদদের গণকবর। যেখানে বরগুনার মুক্তিকামী মানুষদের মাটি চাপা দেয়া হয়েছে। ১৯৯২ সনে সেখানে একটা স্মৃতি সৌধ নির্মান করা হয়েছে। স্মৃতি সৌধের শ্বেত পাথরে লেখা রয়েছে শহীদদের নাম। ১৯৭১ সনে যারা মুক্তিযুদ্ধকে সমর্থন করেছিল, শেখ মুজিবকে ভোট দিয়েছিল, তাদেরকে এই দুদিনে হত্যা করা হয়। ইতিহাস থেকে জানা যায়, ২৬ এপ্রিল তৎকালীন বরগুনা মহাকুমা সদর পাক বাহিনীরা দখলে নেয়। বরগুনার মুক্তিকামী জনতা এসময় ক্ষিপ্ত হয়ে পাক বাহিনীর সাথে লড়াই করার জন্য ¯িপড বোট নিয়ে রওনা হয়। কিন্তু পাক বাহিনীর বিমান হামলা ও মারাত্মক অস্ত্রের আঘাতের কথা চিন্তা করে এবং নিজেদের কাছে লড়াই করার মতো অস্ত্র না থাকায় আবার ফিরে আসেন। মুক্তিযোদ্ধারা বরগুনা ছেড়ে লোকালয়ে যাবার সুযোগে মুসলিমলীগ, জামায়াত ও অন্যান্য পাকিস্তানপন্থীরা বরগুনা শহর দখল করে এবং সাবেক মুসলিমলীগ নেতা এম এন এ আবদুল আজিজ মাষ্টার ও পাথরঘাটার তাহের উদ্দিন হাওলাদার পটুয়াখালী গিয়ে পাক বাহিনীদের বরগুনা নিয়ে আসে। তখন বরগুনা শহর ছিল প্রায় জন মানবহীন। এসডিওর জেটিতে পাকবাহিনী পজিশন নিয়ে কোর্ট বিল্ডিং এলাকায় কিছু লোক জড়ো করে ভাষন দেয়। পরের দিন ১৫ মে পাথরঘাটা থানার বেশ কয়েকজনকে ধরে এনে বিষখালী নদীর তীরে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। সেদিন মুক্তিযোদ্ধাদের আহাজারী ও স্বজন হারাদের কান্নায় আকাশ বাতাস ভারী হয়ে ওঠেছিল। বিষখালী নদীর পানি রক্তে লাল হয়ে গিয়েছিল। আর এ হত্যাকান্ডে নেতৃত্ব দিয়েছিল, পটুয়াখালী জেলা সামরিক আইন প্রশাসক মেজর নাদের পারভেজ। এসময় পাথরঘাটার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী লক্ষন দাস, তার ছেলে কৃষ্ণ দাস, অরুন দাস ও স্বপন দাসকে ধরে এনে বরগুনা কারাগারে আটক রাখা হয় এবং মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে অবস্থানের কারনে সাবেক সিও আতিকুল্লাহ, এস আই আবদুল মজিদ, সিপাহী আড়ি মিয়া ও আবদুল জব্বারকে পটুয়াখালী নিয়ে হত্যা করা হয়। পাকবাহিনীদের হানায় বরগুনা শহর আস্তে আস্তে লোকশূন্য হতে থাকে। এসময় পাকবাহিনীরা কুটবুদ্ধির মাধ্যমে মরন ফাঁদ পাতে। তাদের সহযোগিরা ঘোষনা দেয়, বর্ন হিন্দুদের কিছুই বলা হবেনা। পাকবাহিনীরা তখন বরগুনা ছেড়ে পটুয়াখালী চলে যায়। পাকবাহিনীর ঘোষনায় আশ্বস্ত হয়ে হিন্দু ধর্মাবলম্বীসহ আওয়ামীলীগ সমর্থকরা বরগুনা শহরে এসে যার যার বাসায় অবস্থান নেয়। ২৬ মে পাকবাহিনীর ক্যাপ্টেন সাফায়াত চারজন সহযোগী নিয়ে ¯পীড বোটে বরগুনা চলে আসে। তাদের আসার খবর সেদিন কেউই পায়নি। পরের দিন সকালে ২/৩ জন করে লোক ধরা শুরু করে। দুপুরে সামান্য বৃষ্টি হলে লোকজন পালাতে থাকে। তখন পাকবাহিনীর সদস্যরা দোনকার ইমাম হোসেনের মত সহযোগিদের নিয়ে নাথপাড়া, পশ্চিম বরগুনা ও শহর এলাকা ঘেরাও করে শতাধিক নারী পুরুষকে বেধে জেলখানায় নিয়ে যায়। পাকবাহিনীর সদস্য ও তাদের সহযোগিরা সিএন্ডবির ডাকবাংলোকে ক্যা¤প হিসেবে ব্যবহার করে। রাতে অনেক অবলা মা-বোনকে জেলখানা থেকে সেখানে নিয়ে গণধর্ষন চালানো হয়। সকাল বেলায় আবার তাদের জেলখানায় পাঠানো হয়। মা-বোনদের রক্তে সেদিন জেলখানার রাস্তার মাটি লাল হয়ে গিয়েছিল। এসব ঘটনার নিরব সাক্ষী মাইঠা গ্রামের ফারুকুল ইসলাম। ২৮ মে পটুয়াখালী জেলা সামরিক আইন প্রশাসক মেজর নাদের পারভেজ বরগুনায় আসে এবং ২৯ মে বরগুনা জেলখানায় প্রহসনমূলক বিচারের ব্যবস্থা করে গণহত্যা শুরু করে। জেলখানার উত্তর-পশ্চিম পাশে বরগুনা জেলা স্কুল অবস্থিত। প্রতিদিনের ন্যায় সেদিনও ছাত্ররা স্কুলে এসেছিল। ক্লাস শুরুর ঘন্টা বাজার সাথে সাথেই প্রচন্ড গুলির শব্দে শহরময় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, সবাই ছুটোছুটি শুরু করে দেয়। বরগুনা জেলখানায় গুলিবিদ্ধ হয়ে তখন একের পর এক মৃত্যুর কোলে ঢলে পরতে লাগলো। প্রথম দিন তারা ৫৫ জনকে হত্যা করেছিল। অনেকে সেদিন গুলি খেয়ে আধা মরা অবস্থায় পরে রয়েছিল। কিন্তু তাদেরও শেষ রক্ষা হয়নি। পরের দিন আবারও ১৭ জনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। জেলখানায় হত্যা করে তাদের সবাইকে একটি গর্তে মাটি চাপা দেয়া হয়। দুইদিনে ৫বার গুলি করার পরও অলৌকিকভাবে বেচে যান সকল ঘটনার প্রত্যক্ষ স্বাক্ষী ফারুকুল ইসলাম। তবে তার অপর দুই ভাই নাসির ও শানুকে মেরে ফেলা হয়। কেষ্ট ডাক্তার নামে পরিচিত কৃষ্ণ দাস গুলিবিদ্ধ হয়েও প্রাণে বেঁচে ছিল। হামাগুড়ি দিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের রাস্তা পাড় হবার সময়ে তাকে ধরে ধরে কোদালের বাট দিয়ে মাথা গুড়িয়ে হত্যা করা হয়। এভাবে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল পাথরঘাটার লক্ষন দাস ও তার ছেলে অরুন দাসকে। অনেককে পটুয়াখালী নিয়েও হত্যা করা হয়েছে। যাদের অনেকের নাম আজও জানা যায়নি। বরগুনা সদর ইউনিয়নের তৎকালীন চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান পনুকে পটুয়াখালী নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এছাড়া আয়লা-পাতাকাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুর রশিদ মাজেদ ও মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহেরকে খাকদোন নদীর তীরে তৎকালীন এসডিওর ঘাটে গুলি করে হত্যা করা হয়। বরগুনার পুরাতন খেয়াঘাটে কাকচিড়ার মুক্তিযোদ্ধা মজিবর রহমান কনককে হত্যা করা হয়েছে। বরগুনা কারাগারে ৭২ জন ও অন্য ৬ জনসহ ৭৮ জনের নাম উল্লেখ করে বরগুনা গণকবরের পাশে একটি স্মৃতি সৌধ নির্মান করা হয়েছে।

করোনায় সারাবিশে^ মৃত্যুর সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৩৫ লাখ ৩৯ হাজার। বরগুনায় নতুন করে আরও ২ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ২৬২ জন। এখন পর্যন্ত বরগুনা সদর উপজেলায় ৬৯৫, আমতলী ১৯১, পাথরঘাটা ১০৬, বেতাগী ৯০, বামনা ৭৭ ও তালতলীতে ১০৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৯২৯ জন পুরুষ ও ৩৩৩ জন নারী। এখন পর্যন্ত বরগুনায় মারা গেছেন ৩২ জন, সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ১৮৯ জন। চিকিৎসাধীন আছেন ৪১ জন। বাংলাদেশে করোনায় আরও ৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। বাংলাদেশে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা ১২ হাজার ৫৪৯ জন। নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে আরও ১ হাজার ৪৩ জন। মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৭ লাখ ৯৭ হাজার ৩৮৬ জন। গত ২৪ ঘন্টায় সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ১৮৭ জন। সুস্থ রোগীর সংখ্যা ৭ লাখ ৩৭ হাজার ৪০৮ জন।

মাইকিংয়ের রেকর্ড করা হয় লোকবেতারে। সুমধুর ও সুস্পষ্ট কন্ঠে মাইকিংয়ের জন্য লোকবেতারের বিকল্প নেই। লোকবেতারের সাউন্ডপ্রুফ স্টুডিওতে করা হচ্ছে গান ও নাটকের রেকর্ড। সেইসাথে লোকবেতারে নামমাত্র টাকায় প্রচার করা হচ্ছে বিজ্ঞাপন। ১৫ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপন প্রচারিত হচ্ছে মাত্র ৫০০ টাকায়। ৩০ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপন ১ হাজার টাকা, ৪৫ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপন দেড় হাজার টাকা, আর ১ মিনিটের বিজ্ঞাপন প্রচার করা হয় মাত্র ২ হাজার টাকায়। নির্ধারিত টাকার বিনিময়ে প্রতিদিন কমপক্ষে ৫ বার করে পুরো ১ মাস বিজ্ঞাপন প্রচার করা হবে। মাইকিং ও বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করবেন ০১৭৭৫৫৬৬৪৪৫ নম্বরে।

এবারে শুনবেন, আবহাওয়ার খবর :
লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। খুলনা, বরিশাল, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে। আজ দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিলো রাঙ্গামাটিতে ৩৬.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বনি¤œ তাপমাত্রা ছিলো তেতুলিয়ায় ২২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বরগুনার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৩.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বনি¤œ ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগামীকাল সূর্যোদয় হবে ভোর ৫ টা ১১ মিনিটে।

সংবাদ শেষ করার আগে শিরোনামগুলো আবার পড়ছি।

সংবাদ শেষ করার আগে জানিয়ে দিচ্ছি, লোকবেতারে সংবাদ জানানোর মোবাইল নম্বর। আপনার এলাকার গুরুত্বপূর্ন সংবাদ জানাতে ফোন করুন : ০১৭৭-৫৫-৬৬-৪৪৫ নম্বরে। আর লোকবেতারের সাথে যুক্ত হয়ে গান শুনতে চাইলে ফোন অথবা এসএমএস করুন, ০১৭৮২৯৭৩৪৭৮ নম্বরে। বিশে^র সব জায়গা থেকেই শুনতে পারবেন, লোকবেতার। লোকবেতার ডট.কম ওয়েবসাইটের মাধ্যমে শুনুন, সরাসরি অনুষ্ঠান।

সংবাদ পাঠ এখানেই শেষ করছি।

সম্পাদনায় : মনির হোসেন কামাল, পরিচালক কাম স্টেশন ম্যানেজার, লোকবেতার।

About Lokobetar FM 99.2

Check Also

লোকবেতারের আঞ্চলিক ভাষার সংবাদ (23-07-2021) # সংবাদ পাঠক : কাজী শেলিনা হোসেন

আসসালামু আলাইকুম। আইজ ২৩ জুলাই, ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ # ০৮ শ্রাবন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ # ১২ জিলহজ, …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *