Blog Details

কভিড ১৯ এর দিন শেষ

থানকুনি পাতার বাংলাদেশ!!!

সোনিয়া আক্তার, ফেলা, লোকবেতারঃ

প্রতিদিনের মতো ঘড়ের সব কাজ শেষ করে সবার শেষে ঘুমাতে গেলো মলি। যতদূর মনে আছে শেষ যখন দেয়াল ঘড়িটা দেখেছে তখন ১ টা বেজে ৫০ মিনিটে ছুঁই ছুঁই। মাথার বালিশটা একটু হেলান দিতেই যেই না একটু তন্দ্রা আসলো চোখে ঠিক তখনই হঠাৎই ফোনের রিংটোন বেজে ওঠে, আধোঘুম অবস্থায় ফোন ধরে মলি, অপরপ্রান্তের কথাগুলো শুনে শিক্ষিত সচেতন এযুগের মেয়ে মলি একপ্রকার বিরক্তিভরা কন্ঠে বলে ”দিদি তোর মাথা ঠিক আছে তুই এসব গুজবে বিশ্বাস করো! কিছুক্ষন কথা বলার পরে ফোনটি রেখে দিলো এবং তন্দ্রাদেবীর কাছে নিজেকে সমার্পণ করলো।

আবার সেই সকালে রহিমা খালার কাছ থেকেও শুনতে হলো গতরাতের সেই থানকুনি পাতা সমাচার। খালাম্মা আমার ৯ বছরের নাতনিকে আমি কিছুতেই বিশ্বাস করাতে পারলামনা সেই রাতেই ওকে নিয়ে থানকুনি পাতা আনতে বাগানে যেতে চেয়েছিলাম কিন্তু ও বলে ”এসব গুজবে বিশ্বাস করাও নাকি পাপ”। রাতে একপ্রকার ছোট খাটো মান অভিমানের পালা বদলের পর মন খারাপ করে মা মরা নাতনীটা ঘুম পড়ে।

কভিড-১৯ (করোনা) নামক ভাইরাস বাংলাদেশে প্রবেশ করার পর পরই মানুষ নানারকম গুজবে বিশ্বাস করতে শুরু করে। তবে এর মধ্যে থানকুনি পাতা নিয়ে গুজবটি মানুষের মনে অনেকদিন বাসা বেধেঁ ছিলো, তারা মনে করতেন তিনটি থানকুনি পাতা খেলে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত করতে পারবেনা, তার মানে এটি করোনা প্রতিরোধে টিকার কাজ করবে।

এই সমস্ত কারণে দূর-দূরন্ত থেকে মানুষ তার প্রিয়জনদের ফোন করে থানকুনি পাতা খাওয়ার পরামর্শ দেয়ার কথা বলা হতো, যেটি আমরা শুরুর গল্পে শুনেছিলাম।

মানুষ আরো বিশ্বাস করতো যে, ফজরের নামায এর আগে থানকুনি পাতা খেতে হবে। আর তাই অনেকেই রাতের অন্ধকারে থানকুনি পাতা খুঁজতে বের হয়ে পড়েছিলেন নানান বিপাকে। তবে অন্যসব এলাকার তুলনায় বরগুনার মানুষ এইসকল গুজবে কম বিশ্বাস করে বলে ধারণা করছেন সচেতন মহল।

বর্তমানের কথা বলতে গেলে বলতে হয় এই সকল গুজব থেকে অধিকাংশ মানুষই বেরিয়ে এসেছে, ২০২১ সালে মানুষ  করোনা টিকা গ্রহণে আগ্রহী হয়ে পড়েছে। তবে করোনা টিকা নিয়ে প্রান্তিক মানুষের মাঝে এখনও ভ্রান্ত ধারণা বিদ্যমান। তারা মনে করেন করোনা টিকা গ্রহন করলে নারীদের গর্ভধারণ ক্ষমতা লোভ পেতে পারে এমনকি মৃত্যুও হতে পারে।

বরগুনাতেও টিকাদানে মানুষের আগ্রহের যেমন বৃদ্ধি পাচ্ছে তেমনি মানুষের মাঝে স্বাস্থ্য সচেতনতার বিষয়টিও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে আর এর ফলে বরগুনায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যাও আগের তুলনায় হ্রাস পেয়েছে বলে এমনই মন্তব্য চিকিৎসকদের।

তবে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সেবা সম্পর্কিত যে হেল্পলাইন/হটলাইন নম্বরগুলো রয়েছে সেগুলো জানানো, স্থানীয় পর্যায়ে কোভিড-১৯ এবং এর টিকা সম্পর্কে যে ধরনের ভ্রান্ত ধারণা, অপপ্রচার বা গুজব রয়েছে সে গুলো প্রতিরোধে বিজ্ঞান-ভিত্তিক তথ্য প্রদানের মাধ্যমে মিসইনফরমেশন, ডিজইনফরমেশন ম্যালইনফরমেশন প্রতিরোধে আমাদের আরো বেশি কাজ করা দরকার। মোটকথা মানুষের করোনা টিকা গ্রহনে অগ্রগতির জন্য সকলের সচেতনতার বিকল্প নেই।

বরগুনাসহ আশেপাশের প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ বাংলাদেশের প্রথম সস্প্রচাকৃত কমিউনিটি রেডিওতে নানান প্রকার অনুষ্ঠান প্রচার করছে যার ফলে এই জনপদের মানুষ অন্যসব এলাকার তুলনায় অনেকবেশি সচেতন হচ্ছে এবং সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিতে পারছে।

লোকতোরের পরিচালক মনির হোসেন কামাল বলেন ”লোকবেতার করোনা ভাইরাস নিয়ে মিসইনফরমেশন, ডিজইনফরমেশন ম্যালইনফরমেশন প্রতিরোধে আমরা সুইজারল্যান্ড এর সহায়তায় এবং বাংলাদেশ এনিজিওস নেটওয়ার্ক ফর রেডিও এন্ড কমিউনিকেশন (বিএনএনআরসির) এর কারিগরি সহায়তায় এসডিজি-১৬ প্রকল্পসহ আরো অনেকগুলো দাতা সংস্থার সহায়তায় নিয়মিত অনুষ্ঠান প্রচার করে যাচ্ছি এবং এর ফলে আমাদের সম্প্রচার এলাকার মানুষ সচেতনতার মাত্রা অনেক উপরে বলে আমি মনে করছি। দেখা গেছে অনেক সময়ে তারা কোন একটি বিষয়ে নিয়ে হতভম্ব হলে অথবা কোন বিষয় সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা না থাকলে লোকবেতারের হটলাইনে কল করে থাকেন আমরা তাদের নিয়মিত তথ্যের ঝোগান দিয়ে থাকি।”

জাতীয় আইন ও আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী জনসাধারণের তথ্য অধিকার নিশ্চিত করা ও মৌলিক স্বাধীনতার সুরক্ষা দান নিশ্চিত করার মাধ্যমে এসডিজি অভিষ্ট ১৬.১০ বাস্তবায়নে সহায়তা করবে বলে, ধারণা করছেন সচেতন মহল।

ReplyForward

Leave a Reply

%d bloggers like this:

developed by:Md Nasir