Blog Details

পরিচয়পত্রের এপিট ওপিট

অফিস ছুটির পরে একটু আড্ডা দিতে খালার বাসায় যাবে মিনু পথিমধ্যে মোবাইলে একটি কল আসে এবং কথা বলতে বলতে মিনুর মুখটা মলিন হয়ে যায়।

মিনু কাজ করছেন ঢাকার একটি পোশাক কারখানায়, কিছুদিন ধরে তার অফিসের সকল কর্মচারীদের তথ্য হাল নাগাত করা হচ্ছে এবং তার অফিসের এডমিন সেকশন থেকে তাকে কল করে জাতীয় পরিচয়পত্রের ভুলতথ্য সংশোধন করার জন্য বলা হয়েছে তাতেও তার তেমন চিন্তার বিষয় ছিলোনা।

চিন্তাটা কপালে বেধে গেছে কারন মিনুর খালাতো বোনের এই একই সমস্যার কারনে তার নানান কাগজপত্রের জন্য অফিসের দ্বারে দ্বারে ঘুরে সমাধান করতে প্রায় তিন মাস সময় লেগে গিয়েছিলো। এদিকে তার এই সমস্যা সমাধানের জন্য সময় মাত্র ৭ দিন এবং তার হাতে কোন অবশিষ্ট ছুটিও নেই কারন তার ছেলে বরিশাল বিশ্ববিদ্যায়লের পড়ালেখা করে, তিনি মাসের শুরুতেই ছেলের কাছে গিয়ে বেশ কয়েকদিন কাটিয়েছিলো।

যাই হোক তার সমস্যার সমাধানের কথায় আশার আগে একটু পেছন ফিরে যেতে চাই।  
আমাদের দেশে ২০০৮ সালে প্রথম বায়োমেট্রিক আইডেন্টিফিকেশন চালু হয়। এবপর ক্রমে এই জাতীয় পরিচয়পত্রের নানান বিবর্তন হয়েছে।

মোবাইলের সিম কার্ড তুলতে গেলে দোকানদারের প্রথম বাক্যটাই হলো জাতীয় পরিচয়পত্র এনেছেন? ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলাতো বটেই, ৫০ হাজার টাকা ব্যাংক থেকে তুলতে গেলেই লাগবে এনআইডি। ডিজিটাল এই পরিচয়পত্র এতটাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেছে যে, এটি ছাড়া এখন আর চলেই না।

বিশেষ করে সন্তানকে স্কুলে ভর্তি, ব্যবসার ট্রেড লাইসেন্স, পাসপোর্ট করাতে, দূরপাল্লার গণপরিবহনের টিকিট পেতে, অভ্যন্তরীণ কিংবা আন্তর্জাতিক বিমানে চড়তে এমনকি বাসা ভাড়া নিতে গেলেও এখন এনআইডি লাগে।

দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত একজন মানুষের নিত্যসঙ্গী হয়ে ওঠেছে জাতীয় পরিচয়পত্র। ক্ষেত্রবিশেষে পরিবার-পরিজন কিংবা বন্ধু-স্বজন এড়িয়ে চলা গেলেও এনআইডিকে সহচর না করে কেউই চলতে পারবেন না।

জীবদ্দশায় নিজের প্রয়োজনে তো লাগবেই মৃত্যুর পর ওয়ারিশানদের সম্পত্তি বণ্টনের ক্ষেত্রেও এটির প্রয়োজন পড়বে। যেকারণে এটি মানুষের জীবনে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেছে। প্রয়োজনীয়তার প্রশ্নে নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগের দায়িত্বশীলরা যুক্তি হিসাবে তুলে ধরছেন নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা এবং সন্ত্রাস-দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে সহজে তথ্য পাওয়ার বিষয়কে।

অনেক সময় সন্ত্রাস এবং দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িতরা নাম-পরিচয়, জন্ম তারিখ পাল্টিয়ে ফেলে। কিন্তু জন্মের প্রথম দিন থেকেই রাষ্ট্রের কাছে কোনো নাগরিকের তথ্য থাকলে তা পাল্টানোর সুযোগ কমে যাবে। জন্ম থেকেই নাগরিকের তথ্য যখন থাকবে, তখন অপরাধ দমনে সেই তথ্য সহায়ক হবে। এজন্য প্রাপ্ত বয়স্কদের পাশাপাশি শিশুকে ইউনিক নম্বর দেয়ার মাধ্যমে জন্মের প্রথম দিন থেকেই একজন নাগরিকের তথ্য রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডারে যুক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে ।

এদিকে প্রাপ্তবয়স্ক ভোটারদের পাশাপাশি শিশুসহ দেশের সকল নাগরিককে কার্ডের আওতায় নিয়ে আসতে ‘এক ব্যক্তি-একটি আইডি’ কার্যক্রম শুরু করেছে সরকার। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত একজন নাগরিককে একটি নম্বর দিয়ে চিহ্নিত করতে ১০ ডিজিটের ইউনিক নম্বর সম্বলিত আইডি করা হচ্ছে। শিশুর জন্মগ্রহণের পর থেকে স্কুলে ভর্তি, পড়াশোনা, বিদেশ ভ্রমণ সব ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হবে এই একটি মাত্র আইডি।

জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট এমনকি যেকোনো ধরনের সেবা পাওয়ার জন্যও প্রয়োজন হবে অভিন্ন এই নম্বর। সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ২০১৯ সাল। কিন্তু করোনা এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এটি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। এখন নতুন করে প্রকল্পের সময়সীমা বাড়িয়ে ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) মহাপরিচালক (ডিজি) হাবিবুর রহমান জানান, ইউনিক আইডি প্রস্তুতের কাজ চলমান রয়েছে। ব্যানবেইসের এস্টাবলিশমেন্ট অব ইন্টিগ্রেটেড এডুকেশনাল ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের (আইইআইএমএস) আওতায় কাজটি পরিচালিত হচ্ছে।

তিনি জানান, একটি সফটওয়্যারের মধ্যেই দেশের সব নাগরিকের সকল তথ্য থাকবে। ফলে যেকোনো কাজই এর মাধ্যমে সহজে সম্পন্ন করা যাবে।

সোনিয়া আক্তার, ফেলো, লেঅকবেতার, বরগুনা।

Leave a Reply

%d bloggers like this:

developed by:Md Nasir