Blog Details

তালতলীতে রাখাইনদের শ্মশান ও আবাসনের জমি দখল

হাইরাজ মাঝি. তালতলী : বরগুনার তালতলীতে রাখাইনদের শ্মশান ও সরকারী আবাসনের জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে নজরুল নামের এক প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে।

শনিবার (১৯ শে মার্চ) উপজেলার বড়বগী ইউনিয়নের মোমেপাড়া গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, শতবছরের পুরানো রাখাইনদের শ্মশান ও সরকারি আবাসনের জমি দখল করার জন্য ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি কেটেছে নজরুল ইসলাম নামে এক প্রভাবশালী। 

স্থানীয় কামাল হাওলাদার বলেন, শিশু বয়সে তারা ঐ জমিতে রাখাইনদের শ্মশান দেখেছেন। আর কয়েক বছর পূর্বেও তার পাশে একটি সরকারি আবাসন ছিল। লোকজন না থাকায় রড টিন সব চুরি হয়ে গিয়েছে এখন শুধু খুটিগুলো রয়েছে। এখন রাখাইনদের শ্মশান ও সরকারি আবাসনের জমি দখলের জন্য ভেকু দিয়ে মাটি কেটেছে নজরুল ইসলাম। 

স্থানীয় বৃদ্ধ জয়নাল ফকির বলেন, মোমেপাড়ায় শতাধিক মগের চিতা (রাখাইনদের শ্মশান) ছিল। আর ২০০৭ সালের বন্যায় আবাসনটি ধংশ হলে ওখানে কেউ না থাকায় মালামাল লুটপাট হয়েছে। বৃটিশ সরকারের সময় এখানে রাখাইনরা থাকলেও এখন এখানে কোন রাখাইন থাকেনা। কিন্তু তাদের চিতা (শ্মশান) ছিলো এখন সেই চিতা (শ্মশান) নজরুল ক্ষমতা দেখাইয়া সব দহল করতেছে। 

রাখাইন সমাজ উন্নয়ন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মি.মংচিন থান জানান, মোমেপাড়ায় এক সময় রাখাইনরা ছিল। কালের বিবর্তনে ঘূর্ণিঝড় জলোচ্ছ্বাসে অনেকে মারা গেছে। আর অনেকে পার্বত্য বান্দরবান খাগড়াছড়ি রাঙামাটি চলে গেছে। ওখানে আমাদের পুকুর ছিল শ্মশান ছিল রক্ষণাবেক্ষণ করার মত কেউ না থাকায় ভূমিদস্যুরা এগুলো দখল করছে। আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাই আমাদের শ্মশান আমাদের ফিরিয়ে দেওয়া হোক। 

এ বিষয় অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম বলেন, ঔ জমিটা কার্ডের আমরা ভেকু দিয়ে মাটিকাটার সময় মাটির তিন চার ফুট নিচ থেকে ইট বের হয়েছে। সেই ইট এখনো আছে, তবে চিতা (শ্মশান) হতে পারে আমরা চিতা  (শ্মশান) দেখিনি। আর আবাসনের জমি আমি দখল করিনি।

তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.কাওছার হোসেন বলেন, রবিবার সকালে স্থানীয় তহসিলদার ও বন বিভাগের লোকজন যাবে। ওটা যদি সরকারি জমি অথবা রাখাইন দের শ্মশান হলে অবৈধ দখল করলে আমরা দেখল মুক্ত করব।

Leave a Reply

%d bloggers like this:

developed by:Md Nasir