Blog Details

আমতলীতে বেড়েছে ডায়রিয়া রোগী # হাসপাতালে ঠাঁই নেই

আমতলীতে বেড়েছে ডায়রিয়া রোগী # হাসপাতালে ঠাঁই নেই

জাকির হোসেন, আমতলী : বরগুনার আমতলীতে বেড়েই চলেছে ডায়রিয়ার রোগী। রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমসিম খাচ্ছেন ডায়রিয়া ওয়ার্ডের চিকিৎসক, নার্সসহ অন্যান্যরা। বেডে ঠাই না হওয়ায় আক্রান্ত রোগীরা নিরুপায় হয়ে বারান্দায় শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এতে দুর্ভোগ বাড়ছে রোগীদের।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহে আমতলী হাসপাতালে ৯৭ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়েছেন। বুধবার দুপুর ১২টা থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নারী শিশু পুরুষসহ মোট ২৪ জন রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ৬ বেডের ওয়ার্ডে বেড সংখ্যা সংকুলান না হওয়ায় নিরুপায় হয়ে রোগীরা বারান্দায় বিছানা পেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, বেডের অভাবে অনেক রোগী হাসপাতালের বারান্দায় বিছানা পেতে চিকিসা নিচ্ছেন। এসময় হলদিয়া ইউনিয়নের তক্তাবুনিয়া গ্রামের জাহানারা বেগম (৫৫) নামে এক রোগী বলেন, ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিসা নিতে এসে জায়গার অভাবে এখন বারান্দায় শুয়ে চকিৎসা নিচ্ছি। আমতলী সদর ইউনিয়নের চলাভাঙ্গা গ্রামের মনিরা বেগম (৩৫) নামে আরেক রোগী বলেন, বারান্দায় শুয়ে চিকিৎসা নিতে খুব কষ্ট হচ্ছে কারন সোয়া অবস্থায় আমাদের পাশ দিয়ে সব সময় লোকজন হাটা চলা করে। এতে তাদের পায়ের এবং বারান্দার ধুলা বালু উড়ে আমাদের চোখ মুখ ভরে যায়। রোগীর সাথে আসা নাননু নামে একজন স্বজন জানান, বেড না পাওয়ায় আমাদেরও কষ্ট হচ্ছে। সারাদিন রোগীর পাশে দাড়িয়ে থাকতে হয়।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সুমন খন্দকার বলেন, শুকনো মৌসুমের কারনে এবং বিশুদ্ধ পানি পানের অভাবে এবং বৃষ্টি না হওয়ায় পানিতে লবনাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় প্রতিদিন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আবদুল মুনয়েম সাদ বলেন, আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত এক সপ্তাহে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বর্তমানে বেডের তুলনায় রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ার কারণে ওয়ার্ডের বাইরে বারান্দায় বিছানা পেতে চিকিৎসাসেবা দিতে হচ্ছে। তবে চিকিৎসার সেবায় কোন ঘাটতি নেই। হাসপাতালে পর্যাপ্ত স্যালাইন মজুদ রয়েছে ও চিকিৎসক ও নার্সরা সবাই আন্তরিক ভাবে চিকিসা দিচ্ছে।

Leave a Reply

%d bloggers like this:

developed by:Md Nasir