Blog Details

বঙ্গবন্ধুর শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালিত

বঙ্গবন্ধুর শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালিত

লোকবেতার ডেস্ক : আজ ১৫ আগস্ট, জাতীয় শোক দিবস। বাঙালির জীবনে অত্যন্ত বেদনাবিদুর, অশ্রু ঝরানো, শোকাবহ দিন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদাতবার্ষিকী। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সেনাবাহিনীর কিছু বিশ্বাসঘাতক পরিকল্পিতভাবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তার সহধর্মিনী শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবসহ ২৬ জনকে হত্যা করেছে। সেদিন আরও শহীদ হয়েছেন, বঙ্গবন্ধুর বড় ছেলে ক্যাপ্টেন শহীদ শেখ কামাল, মেঝ ছেলে লেফটেন্যান্ট শেখ জামাল, ছোট ছেলে ১০ বছরের শিশু পুত্র শেখ রাসেল, বঙ্গবন্ধুর ছোট ভাই শেখ আবু নাসের, শেখ কামালের স্ত্রী সুলতানা কামাল খুকু, শেখ জামালের স্ত্রী পারভীন জামাল রোজী, বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত, বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে শেখ ফজলুল হক মনি, শেখ ফজলুল হক মনির স্ত্রী বেগম আরজু মনি, বঙ্গবন্ধুর প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা কর্নেল জামিল উদ্দিন আহমেদ, পুলিশ কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান ও শামসুল হক, সেনা সদস্য সৈয়দ মাহাবুবুল হক, আবদুর রব সেরনিয়াবাতের ছোট মেয়ে বেবী সেরনিয়াবাত, আবদুর রব সেরনিয়াবাতের ছোট ছেলে আরিফ সেরনিয়াবাত, আবদুর রব সেরনিয়াবাতের নাতি সুকান্ত আবদুল্লাহ বাবু, আবদুর রব সেরনিয়াবাতের ভাইয়ের ছেলে শহীদ সেরনিয়াবাত, আমির হোসেন আমুর খালাতো ভাই আবদুল নঈম খান রিন্টু, আবদুর রব সেরনিয়াবাতের বাসার গৃহকর্মী পোটকা, আরেক গৃহকর্মী লক্ষ্মীর মা, বঙ্গবন্ধুর বাসার ২ গৃহকর্মী ও টেলিফোন অপারেটর। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ছোট শেখ রেহানা বিদেশে থাকায় প্রাণে বেচে আছেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতি হারিয়েছে তার অমূল্য রতন। বাংলার জনপদে নিরলস ছুটে চলায় যিনি বাঙালি জাতিসত্তাকে মুক্তির মোহনায় উপনীত করেছিলেন, জীবনের শ্রেষ্ট সময়টুকু বাঙালির অধিকার আদায়ের কথা বলতে গিয়ে কারান্তরীণ হয়ে কাটিয়েছিলেন, যার তর্জনী হেলনে নিরস্ত্র বাঙালি সশস্ত্র সংগ্রামী ও গেরিলা যোদ্ধা হয়ে ওঠেছিল, এনেছিল স্বাধীনতার লাল সূর্য। সেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের নির্মমভাবে হত্যা করে বাঙালির কপালে কালিমা লেপন করেছে স্বার্থলোভী কতিপয় সেনা কর্মকর্তা। তাদের পিছনে কলকাঠি নেড়েছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার শত্রু দেশি-বিদেশি কুচক্রী মহল। খন্দকার মোশতাক আহমেদ ১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধুর খুনিদের রক্ষায় ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে। ১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমান এ অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করে। শত ঝড়, ঝঞ্ঝা বুকে নিয়ে, রোদ, বৃষ্টি গায়ে মেখে, লাঠি, গুলি, টিয়ারগ্যাসকে মোকাবেলা করে দীর্ঘ সংগ্রামের পথ বেয়ে জাতির পিতার কন্যা শেখ হাসিনা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসে ১৯৯৬ সালের ১২ নভেম্বর সপ্তম জাতীয় সংসদে ইনডেমনিটি আইন বাতিল করে এ নির্মম হত্যাকান্ডের বিচারের পথ অবমুক্ত করেছেন। ১৯৯৮ সালে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী ১২ জনকে মৃত্যুদন্ডাদেশ দেয়া হয়েছে। যাদের মধ্যে সাবেক মেজর বজলুল হুদা, লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফারুক রহমান, কর্নেল সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান, একেএম মহিউদ্দিন, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদকে ২০১০ সালের ২৮ জানুয়ারি এবং ক্যাপ্টেন আব্দুল মাজেদকে ২০২০ সালের ১২ এপ্রিল ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়েছে। লেফটেন্যান্ট কর্নেল আজিজ পাশা ২০০১ সালের ২ জুন জিম্বাবুয়ে পলাতক অবস্থায় মারা গেছে। লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার আব্দুর রশিদ, মেজর শরিফুল হক ডালিম, মেজর নূর চৌধুরী, লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ চৌধুরী ও রিসালদার মোসলেহ উদ্দিন খান এখনো পলাতক রয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, শহীদদের কবর জিয়ারত, কোরানখানি, দোয়ানুষ্ঠান, আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন আয়োজনের মধ্য দিয়ে জাতীয় শোক দিবস পালিত হচ্ছে।

জাতীয় শোক দিবস নিয়ে লোকবেতারে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচারিত হচ্ছে। বেলা বারোটায় বাংলাদেশ বেতারের অনুষ্ঠান সরাসরি প্রচার করা হয়। এছাড়াও বঙ্গবন্ধুর জীবনালেখ্য, আবৃত্তি, ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান “তুমি ছিলে, তুমি আছো, তুমি থাকবে হৃদয়ে মোদের, গীতিনকশাসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান প্রচারিত হয়েছে। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বরগুনার ডিকেপি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আলোচনা সভা, দোয়ানুষ্ঠান, প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান করা হয়েছে। সচেতন নাগরিক কমিটি-সনাকের সহযোগিতায় অনুষ্ঠানটি করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, ডিকেপি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খালেদা আক্তার। আলোচনা করেন, সনাকের সভাপতি অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান, সাবেক সভাপতি আলহাজ¦ আবদুর রব ফকির, মুক্তিযোদ্ধা সুখরঞ্জন শীল, লোকবেতারের পরিচালক মনির হোসেন কামাল ও ডিকেপি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মাহামুদা বেগম। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন, ইমরান হোসেন।

Leave a Reply

%d bloggers like this:

developed by:Md Nasir